📢 উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ শিলিগুড়িতে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, উত্তরবঙ্গের প্রতিটি ছোটখাটো সমস্যার জন্য আর কলকাতামুখী হতে হবে না। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে উত্তরবঙ্গকে আরও বেশি স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কাজ শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা উত্তরের জেলাগুলোর প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় বড় ধরনের বদল আনতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
📢 উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বারবার কলকাতায় ছুটতে হয়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জেলাশাসক এবং বিডিওদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি জেলায় যাতে প্রশাসনিক কাজকর্ম দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং স্থানীয় স্তরেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়, তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তার মতে, কলকাতা থেকে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতা বদলে এখন বিকেন্দ্রীকরণের সময় এসেছে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
📢 বৈঠকে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ করে সেইসব জনপ্রতিনিধিদের নিশানা করেছেন যারা নিজেদের এলাকায় সেভাবে সক্রিয় নন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরেও যারা এলাকায় থাকছেন না বা পলাতক রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা, জনসেবা যাদের কাছে গুরুত্বহীন, তাদের রাজনীতিতে থাকার কোনো অধিকার নেই। এই হুঙ্কার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
📢 উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের সংযোগ রক্ষায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, শিলিগুড়ি থেকে মালদহ এবং কোচবিহার পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে নতুন প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, তার সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলছে এবং এক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক রং দেখা হবে না।
📢 বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাজের ওপর ফোকাস করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বয় প্রয়োজন, কিন্তু উত্তরবঙ্গের মানুষের স্বাভিমান রক্ষায় তিনি আপস করতে রাজি নন। পাহাড়ের সমস্যা সমাধানেও মুখ্যমন্ত্রী আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। তার কথায়, উত্তরবঙ্গ এখন রাজ্যের উন্নয়নের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
📢 দিনের শেষে শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, উন্নয়নের গতি এখন বহুগুণ বাড়বে। জেলা পর্যায়ের সরকারি আধিকারিকদের প্রতি তার কড়া নির্দেশ, কোনো কাজ যেন পেন্ডিং না থাকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সফর উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার পালা, এই নতুন প্রশাসনিক রণকৌশল কতটা দ্রুত মানুষের হাতে পরিষেবা পৌঁছে দেয়।


মতামত দিন