☀️ সাধারণত বর্ষাকালে বৃষ্টির ছোঁয়া পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন শিলিগুড়ির মানুষ। তবে চলতি বছর বর্ষার মরসুমেও ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি। দিনের বেলায় গনগনে রোদ এবং প্রবল আর্দ্রতার কারণে জনজীবন কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
🌡️ এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের শারীরিক অস্বস্তি চরমে উঠেছে। বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম শুকোচ্ছে না, যার ফলে ডিহাইড্রেশন (Dehydration) এবং হিট স্ট্রোকের (Heat Stroke) মতো শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। শহরের রাস্তাঘাটে বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
🌧️ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদ এবং স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য বলছে, সক্রিয় বর্ষার অভাবই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। মৌসুমী বায়ু উত্তরবঙ্গের দিকে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে সমতল থেকে পাহাড়— সর্বত্রই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেশি রয়েছে। শিলিগুড়ির বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা বা টোটো চালকদের অবস্থাও শোচনীয় হয়ে পড়েছে, কারণ প্রখর রোদে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠছে।
🏥 পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সাধারণ মানুষকে প্রচুর পরিমাণে জল পান করার পরামর্শ দিয়েছে। বাড়ি থেকে বেরনোর সময় ছাতা বা টুপি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, কারণ ঘরের ভেতরেও ফ্যান বা এসি (AC) চললেও অস্বস্তি কমছে না।
💧 শিলিগুড়ি শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা এখন কেবলই বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। মৌসুমী বায়ু আবার কবে নাগাদ সক্রিয় হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে আছে কৃষি থেকে শুরু করে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবে মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
🩺 পরিশেষে বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) কারণেই সম্ভবত বর্ষার এই খামখেয়ালি আচরণ। শহরে কংক্রিটের জঙ্গল বেড়ে যাওয়ার ফলে তাপমাত্রার যে বৃদ্ধি ঘটেছে, তা এখন স্পষ্ট অনুভূত হচ্ছে। প্রশাসনকেও নাগরিকদের সুস্থতার দিকে বিশেষ নজর দিতে অনুরোধ জানাচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মানুষ। আশা করা যায়, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবহাওয়ার উন্নতি ঘটবে এবং শহরবাসী কিছুটা স্বস্তি পাবে।


মতামত দিন