📢 দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে গত কয়েক দশকের সম্পর্ক এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে আমেরিকা এই অঞ্চলে ভারতের ওপর নির্ভর করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আল জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন এখন আর যেকোনো বড় সিদ্ধান্তের আগে নয়াদিল্লির অনুমতির তোয়াক্কা করছে না। এই পরিবর্তনটি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (Indo-Pacific) অঞ্চলে আমেরিকার পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
✈️ মার্কিন বিদেশ নীতিতে এই কৌশলগত পরিবর্তনটি লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে আফগানিস্তান এবং তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ক্ষেত্রে। আমেরিকা এখন তাদের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের জন্য ভারতকে পাশে পাওয়ার পরিবর্তে স্বাধীনভাবে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জাম বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনার ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস (White House) এখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে একক সিদ্ধান্তে অটল থাকছে। বিষয়টি নিয়ে সাউথ ব্লকে অবশ্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
🤝 অবশ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল ভারতের ওপর অনাস্থা নয়, বরং আমেরিকার বৈশ্বিক কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের (Strategic Autonomy) একটি অঙ্গ। আমেরিকা চায় না যে তাদের আঞ্চলিক পদক্ষেপগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হোক। রাশিয়ার সাথে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং ইউক্রেন ইস্যুতে নয়াদিল্লির নিরপেক্ষ অবস্থানও হয়তো ওয়াশিংটনের এই নতুন অবস্থানের পেছনে কিছুটা অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। আমেরিকায় এখন China-কে মোকাবিলার জন্য একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে।
🛡️ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং শিল্প সহযোগিতা (Defense Technology and Trade Initiative) গড়ে উঠেছিল, তা এখনও সক্রিয়। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিতিশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের সাথে আগের মতো পরামর্শ না করার বিষয়টি নয়াদিল্লির জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তান বা বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাব বিস্তার নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সজাগ, তবে আমেরিকার এই 'একলা চলো' নীতি সেই সতর্কতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
💡 মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ভারত এখন আর কেবল আমেরিকার সহযোগী নয়, বরং তারা একটি স্বতন্ত্র বিশ্ব শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই আমেরিকার কাছে ভারতের অনুমতি পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারত দুর্বল হয়েছে, বরং এটি প্রমাণিত করে যে ভারত নিজের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অনড়। আমেরিকাও হয়তো বুঝতে পেরেছে যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধ করে দেয়।
🌐 আগামী দিনে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পরীক্ষা। QUAD-এর মতো মঞ্চে আমেরিকা এবং ভারত একসাথে কাজ করলেও, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরের ইস্যুগুলোতে আমেরিকার এই স্বাধীনতা দক্ষিণ এশিয়ার ভারসাম্যকে কতটা প্রভাবিত করে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। ভারতের নেতৃত্ব এখন কীভাবে এই পরিস্থিতিতে ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন উভয়ই।


মতামত দিন