পরিবেশ রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ কোচবিহারে, দেওয়াল থেকে সরছে বিজেপির পোস্টার 🧹

কোচবিহার শহরে শব্দ ও দৃশ্যদূষণ কমাতে এক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিল বিজেপি। শহরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশ দূষণ রোধে নিজেদের প্রচারের পোস্টার ও ব্যানার সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

পরিবেশ রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ কোচবিহারে, দেওয়াল থেকে সরছে বিজেপির পোস্টার 🧹

☘️ উত্তরবঙ্গের কোচবিহার শহরে দেখা গেল এক নজিরবিহীন ছবি। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শহরের নান্দনিকতা বজায় রাখতে নিজেদের সমস্ত রাজনৈতিক পোস্টার ও ব্যানার সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করল বিজেপি। সাধারণত রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন দেওয়াল বা খুঁটিতে প্লাস্টিক ও ফ্লেক্সের পোস্টার লাগানো হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই শহরের পরিবেশকে নোংরা করে তোলে। সেই প্রথা ভেঙে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা।

🚩 মূলত শহরে ক্রমশ বাড়তে থাকা বর্জ্য সমস্যা এবং দৃশ্যদূষণ (Visual Pollution) কমানোর লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতাদের মতে, সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য এবং পরিবেশের সুরক্ষা যেকোনো রাজনৈতিক প্রচারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোচবিহারের বিভিন্ন জনবহুল এলাকা থেকে কর্মীদের মাধ্যমে এই সমস্ত ফ্লেক্স ও ব্যানার খুলে ফেলা হচ্ছে, যা এক উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিচ্ছে।

🏙️ প্রশাসনের নিয়ম মেনেই এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কোচবিহার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সরকারি দেওয়াল থেকে পোস্টার সরানোর ফলে শহর এখন অনেকটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন লাগছে। পরিবেশবিদদের মতে, প্লাস্টিকের ব্যবহারের ফলে যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়, তা রোধ করতে সব রাজনৈতিক দলেরই এই ধরনের দায়িত্বশীল মানসিকতা প্রদর্শন করা উচিত।

🌍 উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে যখন জলবায়ু পরিবর্তন এবং দূষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন কোচবিহারের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রচারের নামে শহর জুড়ে জঞ্জাল তৈরি করা মোটেও কাম্য নয়। বিজেপি কর্মীদের এই পরিশ্রম এবং সচেতনতাকে সাধারণ মানুষও বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন। দলের তরফে জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনেও পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো প্রচার চালানো হবে না।

🏗️ পোস্টার সরানোর পাশাপাশি পরিত্যক্ত ফ্লেক্স ও ব্যানারগুলি কীভাবে পুনর্ব্যবহার (Recycle) করা যায়, তা নিয়েও পরিকল্পনা করছে স্থানীয় নেতৃত্ব। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-use plastic) পরিবেশের জন্য যে কতটা ক্ষতিকর, তা মাথায় রেখেই এই নতুন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রচার এখন ডিজিটাল মাধ্যম বা সীমিত ফ্লেক্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে তারা।

📍 শহরের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও কি এই পথ অনুসরণ করবে? কোচবিহারের সচেতন নাগরিকরা এখন সেই আশাতেই রয়েছেন। একটি পরিচ্ছন্ন এবং দূষণমুক্ত শহর গড়ার এই লড়াইয়ে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই এগিয়ে এলে তা কোচবিহারের জনজীবনের জন্য মঙ্গলজনক হবে। পরিবেশ সচেতনতার এই বার্তা কোচবিহার থেকে শুরু হয়ে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়ুক, এমনটাই দাবি করছেন সুশীল সমাজের মানুষ।

মতামত দিন