🚨 উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি সংলগ্ন ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকায় ফের বড়সড় সাফল্য পেল সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশি চালানোর সময় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন জওয়ানরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া ওই টাকার পরিমাণ ১৬ লক্ষাধিক, যার বৈধ কোনো নথিপত্র দেখাতে পারেননি ধৃত ব্যক্তি। লোকসভা নির্বাচনের আবহে এবং সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারির মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
🔥 ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায়। নিয়মিত টহলের সময় এসএসবির ৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেন। তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করতেই চক্ষু চড়কগাছ জওয়ানদের। একের পর এক ৫০০ টাকার নোটের তাড়া উদ্ধার হয় সেখান থেকে। কোনো রকম হিসাব বহির্ভূত এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে এল এবং কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
💥 সীমান্ত দিয়ে বেআইনি লেনদেন রুখতে দীর্ঘদিন ধরেই কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে এসএসবি। বিশেষ করে নেপাল সীমান্ত দিয়ে অবাধে টাকা পাচার ও চোরাচালানের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই ঘটনার পরেই এসএসবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বাজেয়াপ্ত টাকাগুলি আপাতত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আয়কর বিভাগের আধিকারিকদের এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। অর্থের উৎসের সন্ধানে গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেছেন।
🔍 ধৃত ব্যক্তিকে জেরা করে জানা গিয়েছে, সে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে সীমান্তের ওপারে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। তবে জওয়ানদের সতর্কতায় সেই ছক ভেস্তে যায়। ভোটের মুখে এই ধরণের নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়ার পেছনে বড় কোনো পাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। স্থানীয়দের মতে, শিলিগুড়ি করিডোর সবসময়ই পাচারকারীদের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা প্রয়োজন।
📢 এসএসবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত রক্ষায় তারা সদা সতর্ক। এই ধরণের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখতে ভবিষ্যতে আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলতে পারে বলে আশা করছেন এসএসবি আধিকারিকরা। আপাতত ধৃতকে শিলিগুড়ি মহকুমা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
💼 নির্বাচনের মরশুমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নগদ অর্থ উদ্ধার নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বাড়ছে উত্তাপ। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক যোগ আছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। পুলিশ ও আয়কর দপ্তর এখন এই মামলার গভীরে পৌঁছে আসল সত্য উদঘাটন করার চেষ্টা করছে। পুরো ঘটনাটি বর্তমানে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে।


মতামত দিন