💊 আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থা যে কতটা ব্যয়বহুল, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক মার্কিন তরুণী। তিনি সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন যেখানে তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে ওষুধের জন্য তাঁকে ৮৫ হাজার টাকা খরচ করতে হতো, সেই একই ওষুধের জন্য ভারতে মাত্র ৩৫ টাকা খরচ করতে হয়েছে। এই আকাশপাতাল পার্থক্যের কথা জেনে রীতিমতো অবাক হয়েছে নেটদুনিয়া।
🏥 ওই তরুণী জানিয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি একটি নির্দিষ্ট ওষুধের খোঁজ করছিলেন। আমেরিকায় সেই ওষুধের দাম শুনে তিনি চমকে গিয়েছিলেন। বিশাল অংকের সেই বিল দেখে তিনি বুঝতে পারেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করা কতটা কঠিন। এর পরেই তিনি ভারতে ওষুধের দামের বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য তথ্য পান।
🩺 ভারতেই সেই ওষুধের দাম দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। তিনি জানান, একই কম্পোজিশনের ওষুধ ভারতের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৫ টাকায়। অর্থাৎ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে ওষুধের দামের এই তফাত কয়েক গুণ নয়, বরং কয়েক হাজার গুণ বেশি। এই বিষয়টি বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অসাম্যকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
🌍 প্রসঙ্গত, উন্নত দেশে ওষুধের দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্ক চলছে। আমেরিকার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলির চড়া দামের কারণে বহু মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। সেখানে জেনেরিক ওষুধের ব্যাপক প্রচলন থাকলেও ব্র্যান্ডেড ওষুধের ক্ষেত্রে দামের হার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে বারবার।
🇮🇳 অন্যদিকে, ভারত বিশ্বের ফার্মাসিউটিক্যাল হাব হিসেবে পরিচিত। সাশ্রয়ী মূল্যে জীবনদায়ী ওষুধ তৈরির জন্য ভারতের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের জনঔষধি কেন্দ্র প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত কম দামে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এই ধরণের ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সমাদৃত হচ্ছে।
📉 এই ভিডিওটি এখন নেটমাধ্যমে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, চিকিৎসা ব্যবস্থায় এমন বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। তবে অনেকের মতে, পেটেন্ট আইন এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর খরচের জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম বেশি। তবুও ৮৫ হাজার টাকার বিপরীতে ৩৫ টাকার এই বিশাল ফারাক সাধারণ মানুষের মনে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


মতামত দিন