কলকাতায় মসজিদ ভাঙার ভুয়ো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, আসলে ঘটনাটি বাংলাদেশের: PTI ফ্যাক্ট চেক 🚨

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভুলভাবে ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, কলকাতায় একটি ১৩৬ বছরের পুরনো মসজিদ ভেঙে রাম মন্দির তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (PTI)-এর ফ্যাক্ট চেক (Fact Check) ডেস্কের তদন্তে জানা গেছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের এবং এটি একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা।

কলকাতায় মসজিদ ভাঙার ভুয়ো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, আসলে ঘটনাটি বাংলাদেশের: PTI ফ্যাক্ট চেক 🚨

🕌 সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ব্যবহারকারী একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, এটি কলকাতায় RSS কর্মীদের দ্বারা ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরী জামা মসজিদ (Ghouri Jama Masjid) ভাঙচুর করে রাম মন্দির তৈরির দৃশ্য।

🕵️‍♀️ তবে, প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (PTI)-এর ফ্যাক্ট চেক (Fact Check) ডেস্কের তদন্তে দেখা গেছে যে, ভিডিওটি বাংলাদেশ থেকে এসেছে। ভিডিওতে পাবনায় (Pabna) ১০ বছর বয়সী এক বালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের তিনতলা বাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা যাচ্ছে।

📱 গত ২২ সেপ্টেম্বর, '@sheikh__khirad' নামের একটি X হ্যান্ডেল (X handle) থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছিল। ব্যবহারকারী দাবি করেছিলেন, "কলকাতায় হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাস। বিমানবন্দরের কাছে ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরী জামা মসজিদ RSS দ্বারা ভেঙে রাম মন্দির তৈরি করা হচ্ছে। মুসলমানরা কাঁদছিল, অনুনয় করছিল, কিন্তু এই গেরুয়া গুন্ডারা কোনো দয়া দেখায়নি এবং মসজিদটিকে শহীদ করেছে।"

🔍 PTI ফ্যাক্ট চেক ডেস্ক ইনভিড (InVID) টুল ব্যবহার করে ভাইরাল ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে এবং একাধিক কিফ্রেম (keyframes) বের করে তদন্ত শুরু করে। এই কিফ্রেমগুলির গুগল লেন্স (Google Lens) ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ (reverse image search) করে একই ধরনের দাবি সহ বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পাওয়া যায়।

📰 গুগল লেন্স সার্চের মাধ্যমে ডেস্কটি ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ-ভিত্তিক স্থানীয় সংবাদ পোর্টাল 'দ্য ডেইলি অবজারভার' (The Daily Observer) দ্বারা প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পায়। এই প্রতিবেদনের ফিচার ইমেজ (feature image)টিতে একটি ভাঙচুর করা ভবন দেখা যায় যা ভাইরাল ভিডিওতে ভাঙা ভবনটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

🇧🇩 প্রতিবেদনে দেওয়া বিবরণ বিশ্লেষণ করে, ডেস্কটি জানতে পারে যে ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটেছে, যেখানে একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা পাবনায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর করেছিল।

🚫 তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে, ডেস্কটি গুগল-এ কাস্টমাইজড কিওয়ার্ড সার্চ (customised keyword search) করে নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যে, ভাইরাল পোস্টে বর্ণিত এমন কোনো ঘটনা কলকাতায় ঘটেছে কিনা। তবে, অনুসন্ধানে এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি যা এই ঘটনাটি নিশ্চিত করে।

❌ ঘটনার প্রকৃতি এবং দাবির ব্যাপকতা বিবেচনা করে, যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটত, তবে এটি ব্যাপক মিডিয়া কভারেজ পেত। ফলস্বরূপ, ডেস্কটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, বাংলাদেশের একটি সম্পর্কহীন ভিডিও ভুলভাবে কলকাতায় একটি মসজিদ ভাঙার ঘটনা হিসাবে শেয়ার করা হয়েছে।