☔️ কলকাতা, ০৩ সেপ্টেম্বর (H.S.): কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র (Alipore Regional Meteorological Centre) জানিয়েছে যে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশের দিকে সরে যাওয়ায় কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ অংশে ভারী বৃষ্টি থেকে স্বস্তি মিলেছে।
🌧️ তবে, মৌসুমী অক্ষরেখা (monsoon trough) সক্রিয় থাকায়, আবহাওয়া দফতর আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও পাদদেশের এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর আবহাওয়া ব্যবস্থার দুর্বল হওয়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টির তীব্রতা ও পরিমাণ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
☁️ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে মূলত মেঘলা আকাশ থাকবে এবং কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি কমলেও, মেঘলা আবহাওয়ায় তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাবে।
⚡️ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার জন্য হলুদ সতর্কতা (yellow alert) জারি রাখা হয়েছে, যেখানে বিকেল ও সন্ধ্যায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
🚨 উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, যেখানে আবহাওয়া দফতর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা (orange alert) জারি করেছে। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্রতা পূর্ণ বাতাসের কারণে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের বেশ কয়েকটি স্থানে তীব্র বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
⛰️ দার্জিলিং এবং কালিম্পং সহ পাহাড়ি অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একটানা বৃষ্টির কারণে দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ভূমিধস (landslides) হতে পারে। সমতলের নদীগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় জলমগ্নতা এবং স্থানীয় বন্যা (localised flooding) দেখা দিতে পারে।
⚠️ আবহাওয়া দফতর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে (disaster management authorities) সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ ও বৃষ্টির সময় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের খোলা জায়গা, গাছ এবং জলমগ্ন স্থান এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।



