শিলিগুড়িতে প্রতিমা বিসর্জনে ট্রলি সিস্টেমের সূচনা, মিশ্র প্রতিক্রিয়া 🛺

শিলিগুড়ির লাল মোহন মৌলিক বিসর্জন ঘাটে প্রথমবারের মতো দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রলি সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও দূষণ কমানো। তবে এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

শিলিগুড়িতে প্রতিমা বিসর্জনে ট্রলি সিস্টেমের সূচনা, মিশ্র প্রতিক্রিয়া 🛺

🛺 শিলিগুড়িতে প্রথমবারের মতো লাল মোহন মৌলিক বিসর্জন ঘাটে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রলি সিস্টেম (Trolley System) চালু করা হয়েছে। কলকাতা অনুসরণ করে রাজ্য সরকার এই ব্যবস্থা চালু করেছে, যার লক্ষ্য বিসর্জন প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ করা এবং দূষণ কমানো।

🌊 প্রশাসনের মতে, সরাসরি নদীতে নেমে প্রতিমা বিসর্জন দিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং জল দূষণও বেশি হয়। এই উদ্বেগগুলি মাথায় রেখে ঘাটে একটি ট্রলি স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিমাগুলিকে নদীতে নামানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এই নতুন পদ্ধতিতে প্রথম বিসর্জন সম্পন্ন হয়।

🗣️ তবে, এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে বাসিন্দাদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কিছু মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছেন, কারণ তাদের মতে, প্রতিমাকে উপর থেকে সরাসরি জলে নামানো দেবী দুর্গার প্রতি অসম্মান। তারা বলেছেন যে বিসর্জনের আগে প্রতিমাকে কয়েকবার নদীতে ঘোরানোর ঐতিহ্যবাহী প্রথা বজায় রাখা উচিত।

😔 বাসিন্দা অঞ্জন কুমার দাস বলেছেন: “আমাদের এবং মা দুর্গার জন্য এটি খুবই বেদনাদায়ক। প্রশাসনের কাছ থেকে জনগণের মতামত নিয়ে আগামী বছরের জন্য একটি উন্নত বিসর্জন পরিকল্পনা আশা করা হচ্ছে। আমরা শঙ্কর ঘোষকে প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে আগামী বছরের জন্য আরও ভালো পরিকল্পনা করার অনুরোধ করছি।”

😢 আরেক বাসিন্দা সায়ান চৌধুরী বলেছেন: “এই প্রক্রিয়া দেখে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। ঐতিহ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।”

👍 তবে, কিছু মানুষ এই সিস্টেমকে স্বাগত জানিয়েছেন কিন্তু কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। বাসিন্দা পূজা কুণ্ডু বলেছেন: “ট্রলির উচ্চতা কমানো বা প্রতিমাকে অবাধে পড়তে না দিয়ে দড়ি ব্যবহার করে ধীরে ধীরে জলে নামানো উচিত।”

🗣️ পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেছেন: “এই বছর পরীক্ষামূলকভাবে (Trial Basis) এই সিস্টেম চালু করা হয়েছে। আমরা অবশ্যই মানুষের কাছ থেকে ফিডব্যাক (Feedback) নেব।”

🎉 এই বছর শিলিগুড়িতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮৫০টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিসর্জন পর্ব ২১ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ৩০০ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।