কলকাতায়, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬: মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে এবং ১৮ বছর বয়সে এক কন্যা সন্তানের জননী হিসেবে বিধবা হওয়া সত্ত্বেও, এ. ললিতা (আয়্যালাসোমায়াজুলা ললিতা) সমস্ত সামাজিক বাধা অতিক্রম করে ভারতের প্রথম মহিলা প্রকৌশলী হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখেছেন। তাঁর জীবন কাহিনী দৃঢ় সংকল্প, আত্মবিশ্বাস এবং শিক্ষার প্রতি অদম্য ইচ্ছার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। 🌟
১৯১৯ সালের ২৭শে আগস্ট মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) এক তেলেগুভাষী পরিবারে ললিতার জন্ম। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয় এবং ১৯৩৪ সালে তিনি প্রথম সন্তানের মা হন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তাঁর মেয়ের জন্মের মাত্র চার মাস পরেই তিনি তাঁর স্বামীকে হারান। এই কঠিন সময়ে, যখন তাঁর জীবন সামাজিক প্রত্যাশার দ্বারা নির্ধারিত হতে পারত, ললিতা শিক্ষার পথ বেছে নেন। তাঁর বাবা, যিনি নিজেও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক ছিলেন, তাঁকে এই কঠিন সময়ে সমর্থন জুগিয়েছিলেন। 👨👧👦
সেই সময়ে ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলি মূলত পুরুষ-শাসিত ছিল। কিন্তু ললিতা ১৯৪০ সালে চেন্নাইয়ের কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং, গুন্ডিতে (CEG) ভর্তি হন। তিনি ছিলেন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রথম মহিলা শিক্ষার্থী। যদিও প্রথমদিকে কিছু দ্বিধা ছিল, কলেজের কর্তৃপক্ষ এবং কর্মকর্তারা তাঁর শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি সহ অন্যান্য মহিলা প্রকৌশলী, যেমন পি.কে. থ্রেসিয়া এবং লীলাম্মা কোশি, née জর্জ-এর সাথে পড়াশোনা করেন। 📚
১৯৪৩ সালে, ললিতা বিদ্যুৎ প্রকৌশলে (Electrical Engineering) স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ভারতের প্রথম মহিলা প্রকৌশলী হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন। তাঁর শিক্ষা এখানেই শেষ হয়নি। তিনি জামালপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপে এক বছরের শিক্ষানবিশ (apprenticeship) সম্পন্ন করেন, যেখানে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। 🚂
ললিতার কর্মজীবন তাঁকে ভারতের বাইরেও পরিচিতি এনে দেয়। ১৯৬৪ সালের জুন মাসে, তিনি নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক মহিলা প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী সম্মেলনে (First International Conference of Women Engineers and Scientists) আমন্ত্রিত হন। সেখানে তিনি বলেন, "যদি আমি ১৫০ বছর আগে আমার দেশে জন্মগ্রহণ করতাম, তাহলে আমাকে আমার স্বামীর মৃতদেহের সাথে চিতায় পুড়িয়ে দেওয়া হত।" তিনি বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। 🗣️
১৯৬৭ সালে, তিনি কেমব্রিজে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মহিলা প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী সম্মেলনে (Second International Conference of Women Engineers and Scientists) পাঁচজন ভারতীয় মহিলা প্রকৌশলীকে অংশগ্রহণে সহায়তা করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে লন্ডনের ইনস্টিটিউশন অফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (IEE)-এর সহযোগী সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সালে পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করেন। 🇬🇧
১৯৭৭ সালে অবসর গ্রহণের পর, ললিতা তাঁর বোনের সাথে ভ্রমণ করতে ভালোবাসতেন। ১৯৮৯ সালে, একটি ব্রেইন অ্যানিউরিজমের কারণে তাঁর জীবনাবসান হয়। কিন্তু তাঁর অদম্য সাহস এবং দৃঢ় সংকল্প আজও ভারতের লক্ষ লক্ষ মহিলাকে STEM ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। 💪



