রেপো রেট নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রিজার্ভ ব্যাংকের, স্বস্তিতে আমজনতা 🏦

ভারতের আর্থিক পরিকাঠামোয় বড়সড় কোনো পরিবর্তন না এনেই চলতি আর্থিক বছরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়...

রেপো রেট নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রিজার্ভ ব্যাংকের, স্বস্তিতে আমজনতা 🏦

ভারতের আর্থিক পরিকাঠামোয় বড়সড় কোনো পরিবর্তন না এনেই চলতি আর্থিক বছরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া। বুধবার মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের পর গভর্নর শক্তিকান্ত দাস ঘোষণা করেছেন যে, রেপো রেট আগের মতোই ৬.৫ শতাংশ রাখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই সিদ্ধান্তের ফলে গৃহঋণ বা গাড়ির ঋণের ইএমআই নিয়ে যারা চিন্তিত ছিলেন, তারা আপাতত কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন।

📈 দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্রমাগত বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে এবং মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে রিজার্ভ ব্যাংক এই ভারসাম্য বজায় রাখার পথ বেছে নিয়েছে। যদিও বাজারের বিভিন্ন মহলে সুদের হার কমানোর দাবি উঠেছিল, তবে আরবিআই সেই পথে না হেঁটে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে।

🇮🇳 জিডিপি বা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির হার নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে শীর্ষ ব্যাংক। চলতি আর্থিক বছরের জন্য ভারতের বাস্তব জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভারতের অর্থনীতি যেভাবে বিশ্বজুড়ে মন্থরগতির মধ্যেও নিজের গতি বজায় রেখেছে, তা আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের জন্য এক বড় পাওনা হতে চলেছে।

🔍 মুদ্রানীতি কমিটির সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শক্তিকান্ত দাস। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মুদ্রাস্ফীতির হার ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি না আসা পর্যন্ত কঠোর নজরদারি চালানো হবে। খাদ্যদ্রব্যের দাম এবং বিশ্ববাজারের অপরিশোধিত তেলের দামের দিকেও রিজার্ভ ব্যাংক কড়া নজর রাখছে যাতে সাধারণ মানুষের ওপর কোনো বড় ধাক্কা না আসে।

💼 কলকাতা সহ সারা দেশের শেয়ার বাজারেও এই ঘোষণার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। সূচকের সামান্য নড়াচড়া থাকলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস কাজ করছে যে দেশের অর্থনীতি সঠিক পথেই এগোচ্ছে। মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, কারণ সুদের হার স্থিতিশীল থাকলে ব্যবসার পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

📊 সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি যে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে, তার ইঙ্গিত মিলল এই বৈঠকের মাধ্যমে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক মাসে রিজার্ভ ব্যাংক ঠিক কোন পদক্ষেপ নেয় এবং মুদ্রাস্ফীতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আপাতত দেশের মানুষ রেপো রেট না বাড়ায় এক প্রকার স্বস্তি অনুভব করছেন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অপেক্ষায় রয়েছেন।

মতামত দিন