📢 শিলিগুড়ির রূপ বদলে দিতে এবং শহরকে হোর্ডিং মুক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার বড়সড় অভিযানে নামল শিলিগুড়ি পুরনিগম। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, শহরের বিভিন্ন মোড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গজিয়ে উঠেছে অগুন্তি হোর্ডিং। এতে একদিকে যেমন শহরের সৌন্দর্যায়ন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পথচলতি মানুষ ও যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে নানা ঝুঁকি। এই সমস্যার সমাধানে পুরসভার তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবৈধ হোর্ডিং আর বরদাস্ত করা হবে না।
🚧 শহরের প্রাণকেন্দ্র হিলকার্ট রোড থেকে শুরু করে সেবক রোড, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এখন পুরসভার বিশেষ দল নজরদারি চালাচ্ছে। যেসব হোর্ডিংয়ের বৈধ লাইসেন্স নেই বা নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড় আকারে তৈরি করা হয়েছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণের কাজ চলছে। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহরের নিকাশি ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে যেসব হোর্ডিং বিপজ্জনকভাবে ঝুলে আছে, সেগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
⚠️ এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো শহরের দৃশ্যদূষণ রোধ করা। দিনের পর দিন যত্রতত্র হোর্ডিং লাগিয়ে শহরের আভিজাত্য নষ্ট করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। এবার সেই অভিযোগেরই সুরাহা করতে পুরসভার কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছেন। কোনো রকম গড়িমসি বরদাস্ত না করে অবৈধ হোর্ডিংয়ের কাঠামো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোকে বারবার সতর্ক করার পরেও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
🏗️ অভিযানে নেমে পুরসভার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বেআইনি হোর্ডিংয়ের ফলে অনেক সময় পথ দুর্ঘটনায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ঝোড়ো হাওয়া বা বৃষ্টির সময় এই হোর্ডিংগুলো যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় বিপত্তি ঘটাতে পারে। শিলিগুড়ি শহরকে স্মার্ট ও বাসযোগ্য করে তুলতে এই ধরণের জঞ্জাল পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। আগামী কয়েকদিন এই অভিযান অবিরাম চলবে এবং শহরের প্রতিটি এলাকা এই নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা হবে।
🏢 শহরবাসীদের একাংশ পুরসভার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকদিন ধরেই দাবি ছিল, হোর্ডিংয়ের দাপটে শহরের আসল রূপ ঢাকা পড়ছে। তবে ব্যবসায়ীদের অনেকের মধ্যেই কিছুটা চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুরসভার পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, বৈধ নিয়ম মেনে বিজ্ঞাপন দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু রাস্তার দখল নিয়ে অরাজকতা চালানো কোনোভাবেই চলবে না। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে চাইছেন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলীও তৈরি করা হয়েছে।
✅ পরিশেষে বলা যায়, শিলিগুড়ি পুরনিগমের এই কঠোর পদক্ষেপ শহরকে আরও সুশৃঙ্খল ও নান্দনিক করে তোলার পথে একটি বড় মাইলফলক হতে চলেছে। আগামী দিনেও শহরের সৌন্দর্যায়ন রক্ষায় প্রশাসন একইভাবে কড়া অবস্থান বজায় রাখবে বলে আশা করছেন সচেতন নাগরিকরা। এই অভিযানে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও একান্ত কাম্য, যাতে কোনোভাবেই শহরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত না হয় এবং শিলিগুড়ি হয়ে ওঠে তরাইয়ের এক আদর্শ শহর।


মতামত দিন