🚀 বিহারের আনন্দ কুমার, যিনি একসময় পাপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, আজ তিনি IIT-এর (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি) উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থীদের জন্য 'সুপার ৩০' (Super 30) তৈরি করে শিক্ষার জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে আর্থিক সংগ্রাম সুযোগ ও সহায়তা পেলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।
👨🏫 আনন্দ কুমার পাটনার (Patna), বিহারের (Bihar) একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা রাজেন্দ্র প্রসাদ ডাকঘরে একজন কেরানি (clerk) ছিলেন। তিনি একটি হিন্দি-মাধ্যম সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং সেখানেই গণিতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ জন্মায়। সীমিত আর্থিক সংস্থান থাকা সত্ত্বেও, তিনি পড়াশোনা বা গবেষণা থেকে কখনো পিছিয়ে আসেননি। তিনি শুধু শ্রেণীকক্ষে গণিতে আগ্রহী ছিলেন না, তিনি সংখ্যা তত্ত্ব (number theory) নিয়ে গবেষণা করা তরুণ শিক্ষার্থীদের একটি দলের সদস্য ছিলেন এবং তার গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল।
💔 ১৯৯০-এর দশকে আনন্দ কুমারের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Cambridge) পড়াশোনার সুযোগ হয়েছিল। গণিতের প্রতি অনুরাগী একজন শিক্ষার্থীর জন্য এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া একটি বড় সম্মান ছিল। তবে, তার ভাইয়ের মৃত্যু পরিবারের আর্থিক ভাগ্য পরিবর্তন করে দেয়। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে, বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, কুমার কেমব্রিজে পড়াশোনার তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি।
🤝 পরিবারকে সহায়তা করার জন্য, তিনি তার মা জয়ন্তী দেবীকে পাপড় বিক্রি করতে সাহায্য করতেন। তিনি গণিত অধ্যয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কিছু দায়িত্বও পালন করতেন। এই কঠিন সময় তাকে নিম্ন আয়ের পটভূমি থেকে আসা প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জগুলি বুঝতে সাহায্য করেছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে অনেক শিক্ষার্থী সফল হতে পারে কিন্তু তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আর্থিক সংস্থান নেই।
📚 আনন্দ কুমার ১৯৯২ সালে পাটনায় রামানুজন স্কুল অফ ম্যাথমেটিক্স (Ramanujan School of Mathematics) প্রতিষ্ঠা করেন, যা গণিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ক্লাব ছিল। তিনি দুজন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করেছিলেন এবং বিনামূল্যে পাঠদান শুরু করেন। ধীরে ধীরে আরও বেশি শিক্ষার্থী তার শিক্ষাদানে আগ্রহ দেখায় এবং তিনি তার ক্লাসের জন্য ফি নেওয়া শুরু করেন। এই সময়ে, তিনি একজন শিক্ষার্থীকে দেখেন যিনি IIT প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিলেন কিন্তু কোচিং ফি দিতে পারছিলেন না।
✨ এই ঘটনাটি কুমারকে 'সুপার ৩০' (Super 30) শুরু করার অনুপ্রেরণা যোগায়। ২০০২ সালে তিনি রামানুজন স্কুল অফ ম্যাথমেটিক্সের অধীনে 'সুপার ৩০' প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের IIT প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা। এই কর্মসূচিতে প্রতি বছর ৩০ জন যোগ্য শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয় এবং তাদের বিনামূল্যে কোচিং, অধ্যয়নের উপকরণ, খাবার ও বাসস্থান সরবরাহ করা হয়, যাতে তারা শিক্ষার খরচ নিয়ে চিন্তা না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে। কুমারের এই প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল সমাজের দুর্বল অংশের শিক্ষার্থীদের ভারতের মর্যাদাপূর্ণ IIT-গুলিতে ন্যায্য ভর্তির সুযোগ দেওয়া।
🏆 আনন্দ কুমারের এই প্রচেষ্টা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০১০ সালে, টাইম (Time) ম্যাগাজিন 'সুপার ৩০'-কে 'বেস্ট অফ এশিয়া' (Best of Asia) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যা এটিকে আরও বেশি পরিচিতি ও স্বীকৃতি এনে দেয়। ২০১৯ সালে, তার হিন্দি চলচ্চিত্র 'সুপার ৩০' মুক্তি পায়, যা আরও অনেক মানুষের কাছে তার গল্প পৌঁছে দেয়। ২০২৩ সালে, শিক্ষায় তার অবদানের জন্য তাকে ভারতের বেসামরিক সম্মানগুলির মধ্যে অন্যতম 'পদ্মশ্রী' (Padma Shri) পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।



