কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ড: ৯ জনের মৃত্যু, রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ 🚨

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।

কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ড: ৯ জনের মৃত্যু, রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ 🚨

🔥 কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি পাঁচতলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। এই ভবনে বেশ কয়েকটি হোটেল ছিল। বুধবার (১৯ আগস্ট, ২০২৬) ভোররাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টা ০৭ মিনিটের মধ্যে আগুন লাগে।

🚒 পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মৃতদের বেশিরভাগের শরীরে পোড়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি, শ্বাসরোধ (asphyxia) হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করেছে।

🚨 এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যজুড়ে সমস্ত হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা নিরীক্ষা (fire-safety audit) করার নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী এই ঘটনায় গুরুতর নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

🏢 মন্ত্রী হোটেলের কক্ষগুলিতে জানালার অভাব এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটির সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে এমন ঘিঞ্জি হোটেলগুলিকে ট্রেড লাইসেন্স (trade licenses) দেওয়া হয়েছিল।

⚖️ পুলিশ পলাতক মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে এবং একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন যে শর্ট সার্কিট (short circuit) থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

🇧🇩 মৃতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশু ও দুই মহিলা সহ ৯ জন ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, পরে বাংলাদেশ মিশন সূত্রে জানা যায় এই সংখ্যা ৭-এ পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিরমিন, তাদের চার বছরের ছেলে স্বর্ণাশিস এবং আফসানার বাবা আকরাম আলীও রয়েছেন।

🗓️ এই ঘটনাটি তারাপীঠে (Tarapith) আরেকটি হোটেল অগ্নিকাণ্ডের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর ঘটেছে, যেখানে ১৭ আগস্ট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কলকাতা পৌরসংস্থা (KMC) শহরের ১৬টি বরোর জন্য পৃথক পরিদর্শন কমিটি গঠন করবে, যা ২৫ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করবে। এই কমিটিগুলি অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পরীক্ষা করবে।

🗣️ মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সরকার এই বিষয়ে 'জিরো টলারেন্স' (zero-tolerance) নীতি গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন।