হুগলি নদীতে পর্যটনের জন্য ১০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার দুটি হাইব্রিড-ইলেকট্রিক ফেরি আনছে রাজ্য সরকার! 🚢

পশ্চিমবঙ্গ সরকার হুগলি নদীতে পরিবেশ-বান্ধব নদী পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুটি ১০০-যাত্রী ধারণক্ষমতার হাইব্রিড-ইলেকট্রিক ফেরি চালু করতে চলেছে। এই উদ্যোগ রাজ্যের সমৃদ্ধ ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সবুজ গতিশীলতাকে একত্রিত করবে।

হুগলি নদীতে পর্যটনের জন্য ১০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার দুটি হাইব্রিড-ইলেকট্রিক ফেরি আনছে রাজ্য সরকার! 🚢

🏞️ হুগলি নদীতে পরিবেশ-বান্ধব নদী পর্যটন বিকাশের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুটি ১০০-যাত্রী ধারণক্ষমতার হাইব্রিড-ইলেকট্রিক ফেরি চালু করতে চলেছে। রাজ্য পর্যটন দপ্তর থেকে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) লিমিটেড দুটি হাইব্রিড ডিজেল-ইলেকট্রিক ফেরি এবং দুটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের জন্য কাজের আদেশ (work orders) পেয়েছে।

🗣️ শহরে 'ফর্মাল ওয়ার্ক অর্ডার হ্যান্ডিং ওভার' অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ শনিবার জানান যে, এই উদ্যোগটি রাজ্যের সমৃদ্ধ ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সবুজ গতিশীলতা (green mobility) একত্রিত করবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।

🗺️ ঘোষ আরও বলেন যে, এটি হুগলি নদী বরাবর পরিবেশ-বান্ধব নদী পর্যটন বিকাশের এবং কলকাতা ও প্রধান ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির মধ্যে একটি সমন্বিত পর্যটন করিডোর (integrated tourism corridor) তৈরির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

⚙️ দক্ষ এবং পরিবেশ-বান্ধব অভ্যন্তরীণ জল পরিবহনের জন্য ডিজাইন করা এই জাহাজগুলি হাইব্রিড ডিজেল-ইলেকট্রিক মোডে ৯ নট (knots) পর্যন্ত এবং সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক মোডে ৭ নট পর্যন্ত গতি অর্জন করবে। ফেরিগুলির প্রতিটি ২৪ মিটার লম্বা এবং ৮ মিটার চওড়া হবে, যার যাত্রী ধারণক্ষমতা ১০০ জন এবং ১ মিটার ড্রাফ্ট (draft) প্রয়োজন হবে।

🔋 GRSE দ্বারা প্রকাশিত একটি প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ব্যাটারি এবং ডিজেল জেনারেটর সমন্বিত উন্নত প্রপালশন সিস্টেম (propulsion systems) দিয়ে সজ্জিত এই ফেরিগুলি ভারতীয় অভ্যন্তরীণ জলপথে নির্ভরযোগ্য কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় এবং কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে। জাহাজগুলি ইন্ডিয়ান রেজিস্টার অফ শিপিং (IRS) দ্বারা শ্রেণীবদ্ধ করা হবে এবং কম শব্দ ও কম্পনের মাধ্যমে যাত্রীদের উন্নত আরাম দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।"

💰 এই প্রকল্পের জন্য ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে এবং এটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প 'Special Assistance to States for Capital Investment – Development of Iconic Tourist Centres to Global Scale (SASCI)' এর অধীনে অর্থায়ন করা হবে। ফেরিগুলি ১৫ মাসের মধ্যে চালু করা হবে বলে মন্ত্রী ঘোষ জানিয়েছেন।

📍 প্রস্তাবিত পর্যটন পথটি কলকাতার বাবুঘাট থেকে মায়াপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, যেখানে দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ, হংসেশ্বরী মন্দির এবং ব্যারাকপুরের অন্নপূর্ণা মন্দিরের মতো তীর্থস্থানগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর এবং ব্যান্ডেলকে ঘিরে ঐতিহাসিক 'লিটল ইউরোপ বাই দ্য গঙ্গা' (Little Europe by the Ganga) প্রসারিত করবে, যা আমাদের সমৃদ্ধ ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরবে।

🔌 ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর এবং হুগলি পন্টুনে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়াও কলকাতা, ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হুগলি, অম্বিকা কালনা, মাতিয়ারা, নদিয়া এবং বারানগরে নতুন জেটি (jetties) প্রস্তাব করা হয়েছে।