সন্তান জন্মের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরেই ২০০ কিলোমিটার সফর, ইতিহাস গড়লেন তামিলনাড়ুর আদিবাসী কন্যা 👩‍🎓

অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানল মাতৃত্বকালীন শারীরিক ক্লান্তি। তামিলনাড়ুর নারি-কুরুভা জনজাতির প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে...

সন্তান জন্মের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরেই ২০০ কিলোমিটার সফর, ইতিহাস গড়লেন তামিলনাড়ুর আদিবাসী কন্যা 👩‍🎓

অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানল মাতৃত্বকালীন শারীরিক ক্লান্তি। তামিলনাড়ুর নারি-কুরুভা জনজাতির প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে নাম লিখিয়ে আগেই খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। এবার সন্তান জন্মের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরেই ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, লক্ষ্যের চেয়ে বড় কিছুই নয়। এই সাহসী তরুণীর নাম প্রিয়দর্শিনী। তাঁর এই লড়াই এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

🚀 প্রিয়দর্শিনী যখন নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে ব্যস্ত, তখনই খবর আসে রাজ্য পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে পরীক্ষার ঠিক দুদিন আগেই তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সিজারিয়ান অপারেশন বা শল্যচিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠতে সাধারণত চিকিৎসকরা দীর্ঘ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রিয়দর্শিনীর কাছে ক্যারিয়ারের এই সুযোগ ছিল অত্যন্ত মূল্যবান।

🚌 পরিবারের অমত থাকলেও প্রিয়দর্শিনী ছিলেন অবিচল। নিজের ছোট্ট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তামিলনাড়ুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। টানা ২০০ কিলোমিটার পথ গাড়িতে সফর করা একজন সদ্য মা হওয়া নারীর জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি ঠিক সময়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে এসে উপস্থিত হন।

🌟 পরীক্ষার হলে তাঁর এই উপস্থিতি দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যান শিক্ষক এবং অন্য পরীক্ষার্থীরা। কোনো বিশেষ বাড়তি সুবিধার আশা না করে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই পরীক্ষার খাতায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিক দৃঢ়তার দৃশ্য সত্যিই বিরল। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়ার কোনো সুযোগ নেই।

🎯 তামিলনাড়ুর নারি-কুরুভা আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সমাজের মূলস্রোতে আসার যে পথ দেখাচ্ছেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে পাথেয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার এই শিক্ষা তিনি নিজেই নিজের জীবনের মাধ্যমে তুলে ধরছেন। তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যরাও তাঁর এই অদম্য স্পৃহাকে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

💪 প্রিয়দর্শিনীর এই আত্মত্যাগ যেন প্রতিটি নারীর কাছে এক অনন্য উদাহরণ। শুধুমাত্র ডিগ্রি বা চাকরির জন্য নয়, বরং নিজের অস্তিত্বের লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। আমরা আশা করি, তাঁর এই পরিশ্রম সার্থক হবে এবং তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত সরকারি চাকরিটি অর্জন করবেন। তাঁর আগামী দিনের পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক।

মতামত দিন