ছাত্র রাজনীতিতে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি, Faculty of Engineering and Technology Students' Union (FETSU)-এর একটি প্রস্তাবিত সাধারণ সভা (GB) বৈঠককে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি ১৯শে আগস্টের গভীর রাত থেকে ২০শে আগস্টের প্রথম দিকে ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে। 🏃♂️
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৈঠক চলাকালীন কিছু অংশগ্রহণকারীকে 'নকশাল' বলে অভিহিত করা হয় এবং মৌখিকভাবে হেনস্থা করা হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বহিরাগতদের একটি দল লাঠি ও লোহার রড নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। তৃতীয় বর্ষের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র তনয় দত্ত জানান, "বহিরাগতদের কিছু ব্যক্তি বাঁশ নিয়ে এসেছিল এবং পরিবেশ ক্রমশ আগ্রাসী হয়ে ওঠে।" চতুর্থ বর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্র এবং All India Students' Association (AISA)-এর সদস্য সপ্তক মিশ্র অভিযোগ করেন যে, প্রায় ১০০-১৫০ জন লোক, যাদের বয়স ৪০-৫০ বছরের মধ্যে ছিল এবং তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিল, তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। 🚶♀️
ঘটনার পর, আহত ছাত্রছাত্রীদের MR Bangur হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলতে থাকে। হাসপাতালের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীরা খবর পান যে ক্যাম্পাসে আগুন লাগানো হয়েছে এবং একটি বড় জনতা প্রবেশ করে বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুর চালাচ্ছে। যারা হাসপাতালে ছিলেন, তাদের ক্যাম্পাসে ফিরে না আসার জন্য সতর্ক করা হয়, কারণ সেখানে প্রাণের ঝুঁকি ছিল। 🏥
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ২০শে আগস্ট একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘোষণা করেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি প্রণব চট্টোপাধ্যায়। এই কমিটি ১৯-২০শে আগস্টের ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত করবে। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ছাত্র অভিযোগ নিষ্পত্তি সেলও ভেঙে দিয়েছে, যা প্রাক্তন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাহু-র অধীনে ছিল। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে সাহু ২০শে আগস্ট ভোরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন যখন ভাঙচুর চলছিল এবং ABVP-র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শুভব্রত অধিকারীর সাথে কথা বলছিলেন। 📹
ABVP অভিযোগ করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি না থাকা সত্ত্বেও একটি 'অবৈধ' জিবি সভা ডাকা হয়েছিল। তারা আরও দাবি করে যে, 'নকশালপন্থী' ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফ্রন্ট (DSF) cadres এই 'অগণতান্ত্রিক' প্রচেষ্টার প্রতিবাদকারী ABVP সদস্যদের উপর 'বর্বর হামলা' চালিয়েছে। অন্যদিকে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি ABVP-র বিরুদ্ধে বহিরাগতদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে গোলমাল সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে। ⚖️
এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। BJP বিধায়ক সরবরী মুখোপাধ্যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে 'বিশৃঙ্খলাবাদীদের কারখানা' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, CPI(M) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেছেন যে, সংঘ পরিবার নতুন প্রজন্ম এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং ABVP ছাত্রদের 'ডিজিটাল নকশাল' বলে অভিহিত করছে। 🗣️
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখার জন্য এবং এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। তবে, ছাত্র রাজনীতিতে এই ধরনের সহিংসতা এবং রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। 🚩



