ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতা গুরুতরভাবে সীমিত: রিপোর্ট 🎓

'ফ্রি টু থিঙ্ক ২০২৬' শীর্ষক এক নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতা গুরুতরভাবে সীমিত। এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উচ্চশিক্ষার উপর সরকারি প্রভাব বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন হ্রাস এবং শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের উপর বিধিনিষেধের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতা গুরুতরভাবে সীমিত: রিপোর্ট 🎓

📚 'ফ্রি টু থিঙ্ক ২০২৬' শীর্ষক একটি রিপোর্ট অনুসারে, ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতা "গুরুতরভাবে সীমিত"। এই রিপোর্টটি স্কলার্স অ্যাট রিস্ক (Scholars at Risk) দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে, যারা বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণের উপর নজর রাখে।

📈 রিপোর্টটিতে ১ জুলাই, ২০২৫ থেকে ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৫৯টি দেশ ও অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা সম্প্রদায়ের উপর হওয়া ৩৮২টি আক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। ভারত এই তালিকায় "গুরুতরভাবে সীমিত" শিক্ষাক্ষেত্রের স্বাধীনতার দেশগুলির মধ্যে অন্যতম, যেখানে হংকং, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলিও রয়েছে।

📉 ভারতের একাডেমিক ফ্রিডম ইনডেক্স (AFI) স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২২ সালে যেখানে স্কোর ছিল ০.৩৮, তা কমে ২০২৫ সালে ০.১৪-এ দাঁড়িয়েছে।

🏛️ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চশিক্ষার উপর তার কর্তৃত্ব বাড়িয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসনব্যবস্থা, নেতৃত্ব নিয়োগ এবং একাডেমিক অগ্রাধিকারগুলিকে প্রভাবিত করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশ এবং প্রতিবাদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

🎓 এই রিপোর্টে অধ্যাপক বরখাস্ত, একাডেমিক অনুষ্ঠান বাতিল এবং ছাত্র বিক্ষোভের উপর দমন-পীড়নের মতো ঘটনাগুলির উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (UGC)-কে উচ্চশিক্ষার উপর রাষ্ট্রীয় প্রভাব বিস্তারের একটি "প্রাথমিক মাধ্যম" হিসাবে ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

⚖️ রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্ট ১১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে তিনজন শিক্ষাবিদকে পাঠ্যক্রম উন্নয়নে সরকারি তহবিল প্রাপ্তি থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। এই ঘটনাটি ঘটেছিল যখন ওই শিক্ষাবিদরা NCERT-এর অষ্টম শ্রেণির একটি সামাজিক বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকের সাথে যুক্ত ছিলেন, যেখানে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে একটি অংশকে আদালত "নেতিবাচক চিত্র" বলে মনে করেছিল।

🌍 বিশ্বব্যাপী, গত দশ বছরে ১৭৯টি দেশের মধ্যে ৫০টিতে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যেখানে মাত্র নয়টি দেশে উন্নতি হয়েছে।