আবর্জনা কুড়ানি থেকে IFS অফিসারের মা: সখুবাই পাড়িভরের অনুপ্রেরণামূলক গল্প! 🤩

সখুবাই পাড়িভর, যিনি নিজে কখনও স্কুলে যাননি, তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমে তাঁর ছেলে গৌতম পাড়িভরকে IIT মাদ্রাজ এবং পরে ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (IFS) অফিসার হতে সাহায্য করেছেন।

আবর্জনা কুড়ানি থেকে IFS অফিসারের মা: সখুবাই পাড়িভরের অনুপ্রেরণামূলক গল্প! 🤩

🗑️ মুম্বাইয়ের বস্তিতে আবর্জনা কুড়ানি হিসেবে কাজ করা সখুবাই পাড়িভরের গল্পটি অনুপ্রেরণামূলক, যিনি তাঁর ছেলেকে একজন ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (IFS) অফিসার হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর ছেলে গৌতম পাড়িভর বর্তমানে ছত্তিশগড় ক্যাডারের একজন IFS অফিসার।

👩‍👧‍👦 সখুবাই নিজে কখনও স্কুলে যাননি, কিন্তু শিক্ষার মূল্য তিনি বুঝতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর, তিনি তাঁর সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য গ্রামে দিনমজুর হিসেবে এবং পরে মুম্বাইয়ের বস্তিতে আবর্জনা কুড়ানি হিসেবে কাজ করেছেন। ক্ষুধা, নিদ্রাহীন রাত এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও, তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে তাঁর সন্তানদের জীবিকা অর্জনের জন্য পড়াশোনা ছাড়তে হবে না।

📚 গৌতমের যাত্রা শুরু হয়েছিল অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে। তাঁর মা চেয়েছিলেন যে তাঁর সন্তানরা ছোটবেলায় পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব বহন না করে পড়াশোনার সুযোগ পাক। এই বিশ্বাসই গৌতমের যাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তিনি মহারাষ্ট্রের জালনার জওহর নবোদয় বিদ্যালয় (JNV)-এ পড়াশোনা করেন এবং পরে কোনও আনুষ্ঠানিক কোচিং ছাড়াই JEE (Joint Entrance Examination) পাশ করে IIT মাদ্রাজ (Indian Institute of Technology Madras)-এ ভর্তি হন।

🌳 ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি শেষ করার পর, গৌতম সিভিল সার্ভিসের দিকে এগিয়ে যান। তিনি UPSC (Union Public Service Commission) ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস পরীক্ষা ২০২২-এ অংশগ্রহণ করেন এবং সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ১৩৯ অর্জন করেন। ২০২৩ ব্যাচের ছত্তিশগড় ক্যাডারের ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস অফিসার হিসেবে তিনি বর্তমানে ছত্তিশগড়ের কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের (Kanger Valley National Park) ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।

💖 সম্প্রতি, সখুবাই তাঁর ছেলের অফিসে গিয়ে তাঁর সরকারি চেয়ারে বসেছিলেন। গৌতমের জন্য এই মুহূর্তটি তাঁর মায়ের বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রমের স্মৃতি বহন করে, যা তিনি তাঁর সন্তানদের পড়াশোনার জন্য করেছিলেন। তিনি এই মুহূর্তটিকে "অপার গর্ব" এবং "অনুভূতির সমুদ্র" হিসাবে বর্ণনা করেছেন। গৌতম ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন যে, তিনি যা কিছু, তা তাঁর মায়ের জন্যই, এবং এই সাফল্য তাঁর মায়েরই, সবার আগে। তাঁর মা তাঁকে "লড়াই করার সাহস, কঠোর পরিশ্রম করার প্রেরণা এবং বড় স্বপ্ন দেখার স্বাধীনতা" দিয়েছেন।

🌟 গৌতমের গল্পটি কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পাশ করার গল্প নয়, এটি দেখায় কিভাবে শিক্ষার সুযোগ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একটি পরিবারের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। তাঁর মা নিজে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ না পেলেও, তিনি তাঁর সন্তানদের জন্য শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।