🛍️ ইতালীয় বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড ফেন্ডি (Fendi) তাদের একটি নতুন ব্যাগের জন্য বিতর্কের মুখে পড়েছে, যার দাম প্রায় ৮.৩ লাখ টাকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা এই ব্যাগটির নকশাকে ভারতীয় বাজারে, বিশেষ করে নবরাত্রির সময় বিক্রি হওয়া রঙিন আয়না-কাজের ব্যাগের সাথে তুলনা করেছেন, যেগুলির দাম প্রায় ৫০০ টাকা।
🗣️ আরপিজি গ্রুপ (RPG Group)-এর চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েঙ্কা এবং বায়োকন (Biocon)-এর প্রতিষ্ঠাতা কিরণ মজুমদার-শ' এই ব্যাগটির নকশা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা জানতে চেয়েছেন যে এই নকশাটি ভারতীয় কারুশিল্পকে যথেষ্ট স্বীকৃতি দিচ্ছে কিনা, যা এটি অনুকরণ করছে বলে মনে হচ্ছে।
💬 গোয়েঙ্কা এক্স (X)-এ ব্যাগটির একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, "প্রাডার কোলাপুরি চপ্পল কেলেঙ্কারির (Prada Kolhapuri chappal scandal) পর, এবার ফেন্ডির 'নবরাত্রি' ব্যাগ এসেছে। গুজরাটের রাস্তায় ৫০০ টাকায় পাওয়া একটি ব্যাগের মতো দেখতে একটি ডিজাইনের জন্য ৮.৩ লাখ টাকা চার্জ করা হচ্ছে। এবং ভারতীয় কারিগরদের কোনো কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলি কবে আমাদের কারুশিল্পকে উপনিবেশ (colonising) করা বন্ধ করবে?"
🤔 কিরণ মজুমদার-শ' এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে 'সাংস্কৃতিক আত্মসাৎকরণ' (cultural appropriation) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, "এটি সাংস্কৃতিক আত্মসাৎকরণের একটি ঘটনা এবং এটি ভালো রুচির পরিচায়ক নয়। ভারতের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পকে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে পুনরায় প্যাকেজ করা, যারা এটি তৈরি ও সংরক্ষণ করেছেন সেই কারিগরদের কৃতিত্ব না দিয়ে, আমাদের খাঁটি প্রতিভা এবং ঐতিহ্যকে খাটো করে।" তিনি আরও যোগ করেছেন, "ভারতীয় কারুশিল্পের স্বীকৃতি প্রাপ্য, অনুকরণ নয়।"
🧵 ফেন্ডির ওয়েবসাইট (website) অনুসারে, ব্যাগটি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি এবং এতে ৩৯,৫০০ পুঁতি ও ৪৭৫টি আয়না রয়েছে। ব্যাগটি তৈরি করতে ১৩৮ ঘণ্টারও বেশি কারুশিল্পের কাজ লেগেছে বলে জানা গেছে।
🇮🇳 যদিও ফেন্ডি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পণ্যটিকে "নবরাত্রি ব্যাগ" বলেনি, এই নামটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মন্তব্যে উঠে এসেছে। ব্যাগটি ফেন্ডির ফল/উইন্টার (Fall/Winter) ২০২৬-২৭ সংগ্রহের অংশ।
🤝 এই ব্যাগটির একটি ভারতীয় সংযোগও রয়েছে, কারণ এটি মুম্বাইয়ের চানাক্য (Chanakya) নামক একটি ওয়ার্কশপে হাতে তৈরি করা হয়েছে, যা ইউরোপীয় ফ্যাশন লেবেলগুলির জন্য হাতে সূচিকর্ম করা বস্ত্র তৈরি করে।



