স্কুলের মিড-ডে মিলের মেনু থেকে ডিম বাদ, রাজ্যে তুঙ্গে বিতর্ক 🥚

📢 পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের পাতে ডিমের অনুপস্থিতি বর্তমানে রাজ্যের রাজনীতির অলিন্দে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দ...

স্কুলের মিড-ডে মিলের মেনু থেকে ডিম বাদ, রাজ্যে তুঙ্গে বিতর্ক 🥚

📢 পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের পাতে ডিমের অনুপস্থিতি বর্তমানে রাজ্যের রাজনীতির অলিন্দে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারিভাবে মিড-ডে মিলের মেনু নির্ধারণের সময় ডিমের পদটিকে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ উঠে আসছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পড়ুয়াদের পুষ্টির জন্য ডিম একটি অত্যন্ত সহজলভ্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস, যা বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

🔍 প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলগুলিতে সাধারণত নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী মিড-ডে মিল পরিবেশন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু নির্দেশিকা ও মেনু চার্টের পরিবর্তনের ফলে ডিমের পদটি তালিকা থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলছেন। তাদের দাবি, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ডিমের মতো সস্তা প্রোটিন উৎস বাদ দেওয়া পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করার শামিল।

⚖️ তবে বিতর্ক শুধু পুষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অনেকেই এটিকে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন। বিভিন্ন জেলায় মিড-ডে মিলের মেনু নিয়ে অতীতেও নানা মুনির নানা মত উঠে এসেছে। কোনো কোনো অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, কেন পুষ্টির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অন্য কোনো বিষয়কে, যার ফলে পড়ুয়াদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এমন বড় কাটছাঁট করা হলো।

🍎 পুষ্টিবিদদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গ্রামীণ বাংলার পড়ুয়াদের জন্য স্কুলের এই দুপুরের খাবারই দিনের একমাত্র পুষ্টিকর আহার হয়ে থাকে। সেখানে ডিমের মতো একটি আদর্শ খাদ্য বাদ গেলে প্রোটিনের ঘাটতি মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব শিশুদের শারীরিক বিকাশের ওপর পড়তে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন। তাই মেনু নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ফের সামনে চলে এসেছে।

🏢 রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের অবশ্য দাবি, তারা সরকারি বাজেট ও পরিকাঠামো অনুযায়ী মেনু তৈরি করে থাকে। পুষ্টির কথা মাথায় রেখেই নতুন মেনু সাজানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, বিরোধীদের যুক্তি তা মানতে নারাজ। বিভিন্ন জেলা থেকে খবর আসছে যে, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে আদিবাসী ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিমের কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন সমাজকর্মীরা।

🌐 আগামিদিনে এই বিতর্ক কোন পথে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রেখেছেন শিক্ষামহল থেকে শুরু করে আমজনতাও। স্কুল স্তরের পুষ্টি কর্মসূচি যেন রাজনীতির রঙ না নেয়, এমনটাই চাইছেন সচেতন নাগরিকরা। রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে পড়ুয়াদের সুস্বাস্থ্যের স্বার্থে মেনু পুনরায় পুনর্বিবেচনা করার দাবি জোরদার হচ্ছে। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মতামত দিন