কূচবিহারের পর্যটন পরিকাঠামোয় নতুন দিগন্ত: বিমানবন্দর, সড়ক ও রেলের উন্নয়নে জোর ✈️

পশ্চিমবঙ্গ সরকার কূচবিহারের পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, জেলার বিমানবন্দর, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো হবে।

কূচবিহারের পর্যটন পরিকাঠামোয় নতুন দিগন্ত: বিমানবন্দর, সড়ক ও রেলের উন্নয়নে জোর ✈️

เดินทาง

পশ্চিমবঙ্গ সরকার কূচবিহার জেলাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি জেলা সফরে এসে এই জেলার পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জেলার বর্তমানে অব্যবহৃত কূচবিহার বিমানবন্দরকে কেন্দ্রের উড়ান (Udan) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন। ✈️

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার কূচবিহারের পর্যটন পরিকাঠামোর উপর বিশেষ নজর দেবে। এই জেলা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক মন্দিরের জন্য পরিচিত। উন্নতমানের অতিথি নিবাস এবং অন্যান্য আবাসন সুবিধা গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো হবে। এর ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহন এবং পর্যটন-সম্পর্কিত অন্যান্য ছোট ব্যবসাগুলিরও প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। 🏨

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, রাজ্য সরকার আগামী ৮ই অক্টোবর কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডুর সঙ্গে উড়ান প্রকল্পের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে। যদিও কূচবিহার বিমানবন্দর থেকে কবে থেকে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হবে বা কোন কোন বিমান সংস্থা কোন রুটে পরিষেবা দেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানানো হয়নি। বর্তমানে বিমানবন্দরটি থেকে কোনো বিমান চলাচল করে না। 🛬

এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, তেরাই-দোয়ার্স অঞ্চলকে আগামী এক বছরের মধ্যে একটি বিশ্ব পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। কূচবিহারে ১৯ শতকের মদনমোহন মন্দির এবং অন্যান্য ধর্মীয় স্থান, যেমন বানেশ্বর শিব মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালী বাড়ি, সিদ্ধনাথ শিব মন্দির এবং মধ‍্যপুর সত্রকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে। 🕉️

মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী বলেছেন যে, তিনি আগামী ২০২৭ সালের ৯ই মে-র মধ্যে কূচবিহারের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তিনি বন্ধ চা বাগানগুলি পুনরায় চালু করা, চা বাগান শ্রমিকদের জমির মালিকানা প্রদান এবং চা শ্রমিকদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। 🏡

এই ঘোষণার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী এবং আঞ্চলিক পরিকাঠামো সংক্রান্ত কিছু পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের সুভাষিণী চা বাগানে মুখ্যমন্ত্রী একটি গণ্ডার গ্যালারির উদ্বোধন করেন এবং বিশ্ব গণ্ডার দিবসে দুটি গণ্ডারের নামকরণ করেন। তিনি জানান যে, একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বক্সা টাইগার রিজার্ভে স্থানান্তরিত করা হবে, যেখানে বিগত বছরগুলিতে বাঘের সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে। 🐅

মুখ্যমন্ত্রী জলপাইগুড়িতে মূর্তী নদীর উপর একটি ১২৬ মিটার দীর্ঘ এবং ১৩ মিটার চওড়া সেতু উদ্বোধন করেন, যা নাগরাকাটাকে জলপাইগুড়ির সাথে সংযুক্ত করবে। এই সেতু নির্মাণে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, আরও দুটি সেতু নির্মাণাধীন রয়েছে এবং গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কালিখোলা সেতুর কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। 🌉

এই সমস্ত উদ্যোগের মাধ্যমে কূচবিহার জেলায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কাজ করছে। 🌟