🕌 বারাণসীর ঐতিহাসিক কোচবিহার কালীবাড়িতে প্রস্তাবিত আতিথেয়তা কেন্দ্র (hospitality centre) একটি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণের পরীক্ষার মুখে পড়েছে। এই পরিকল্পনাটি একটি দীর্ঘস্থায়ী শহুরে প্রশ্নকে সামনে এনেছে: কীভাবে একটি জীবন্ত ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থানকে এর কাঠামো এবং স্মৃতি মুছে না ফেলে উন্নত করা যায়?
📜 কোচবিহার আর্কাইভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের সাথে আনুষ্ঠানিক সংরক্ষণ, একটি জাদুঘর এবং স্থানটির রাজকীয় ইতিহাস ব্যাখ্যা করার জন্য একটি গ্যালারি তৈরির আবেদন জানিয়েছে।
💰 রাজ্য সরকার সোনারপুরা এলাকার কালীবাড়ির কাছে একটি নয়তলা আতিথেয়তা কেন্দ্র নির্মাণ এবং বিদ্যমান প্রাঙ্গণ সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে, যার আনুমানিক ব্যয় ৮০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত সুবিধাটিতে ৬০টি অতিথি কক্ষ, ১০টি বিলাসবহুল স্যুট, একটি রেস্তোরাঁ, একটি কফি শপ, একটি লাইব্রেরি, একটি ভোজ হল, একটি জিমনেসিয়াম এবং পার্কিং স্থান অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🗓️ পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী ৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে স্থানটি পরিদর্শন করার পর এই উন্নয়ন পরিকল্পনা আসে।
🗣️ কোচবিহার আর্কাইভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি ঋষিকল্প পাল বলেছেন যে কালীবাড়িটি কোচবিহারের রাজপরিবার দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক প্রকল্পের পরিচয়ে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেছেন যে নতুন ভবনটির একটি উপযুক্ত নাম, যেমন 'কোচবিহার ভবন' বা 'কোচবিহার কালীবাড়ি ভবন' হওয়া উচিত।
🏛️ সোসাইটি বিশেষভাবে রাজ্যকে অনুরোধ করেছে যে প্রস্তাবিত নির্মাণ যেন ঐতিহ্যবাহী প্রবেশদ্বার বা কমপ্লেক্সের অন্যান্য পুরনো কাঠামোকে প্রভাবিত না করে। তারা একটি জাদুঘর এবং গ্যালারি স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছে যাতে দর্শনার্থীরা কোচবিহার রাজপরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।
👑 এই স্থানটির ইতিহাস ১৯ শতকের। কোচবিহারের রাজা হরেন্দ্র নারায়ণ ১৮৩৬ সালে বারাণসীতে আসেন এবং ১৮৩৭ সালে সোনারপুরায় একটি পুরনো বাড়ি ও সংলগ্ন জমি কিনে একটি কালী মন্দির ও বাগান তৈরি করেন। তাঁর উত্তরসূরি রাজা শিবেন্দ্র নারায়ণ ১৮৪৬ সালে ভবনটি সম্পন্ন করেন এবং কালী মূর্তি স্থাপন করে একটি সত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
🤝 কোচবিহার রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে পুরনো কাঠামো রক্ষা এবং সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।



