বারাণসীতে কোচবিহার কালীবাড়ির ঐতিহ্য সংরক্ষণে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন 🏛️

কোচবিহার আর্কাইভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বারাণসীর কোচবিহার কালীবাড়ির ঐতিহ্যবাহী কাঠামো সংরক্ষণ, একটি জাদুঘর ও গ্যালারি স্থাপন এবং নতুন ভবনের উপযুক্ত নামকরণের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন জানিয়েছে। রাজ্য সরকার সেখানে একটি নয়তলা বিশিষ্ট আতিথেয়তা কেন্দ্র (hospitality centre) তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

বারাণসীতে কোচবিহার কালীবাড়ির ঐতিহ্য সংরক্ষণে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন 🏛️

👋 কোচবিহার আর্কাইভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বারাণসীর কোচবিহার কালীবাড়ির ঐতিহ্যবাহী কাঠামো রক্ষা এবং সেখানে একটি জাদুঘর ও গ্যালারি (gallery) স্থাপনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সোসাইটি নতুন ভবনটির নাম 'কোচবিহার ভবন' বা 'কোচবিহার কালীবাড়ি ভবন' রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে।

📜 রাজ্য সরকার বারাণসীর সোনারপুরা এলাকায় কালীবাড়ি চত্বরে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নয়তলা বিশিষ্ট আতিথেয়তা কেন্দ্র (hospitality centre) তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর এই আবেদন জানানো হয়। এই প্রস্তাবিত কেন্দ্রে ৬০টি অতিথি কক্ষ (guest rooms), ১০টি বিলাসবহুল স্যুট (luxury suites), একটি রেস্তোরাঁ (restaurant), একটি কফি শপ (coffee shop), একটি গ্রন্থাগার (library), একটি ভোজসভা কক্ষ (banquet hall), একটি ব্যায়ামাগার (gymnasium) এবং পার্কিং (parking) স্থান অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে।

🗣️ কোচবিহার আর্কাইভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি ঋষিকল্প পল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে বলেছেন যে, কালীবাড়িটি কোচবিহারের রাজপরিবার দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রকল্পের পরিচয়ে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দর্শনার্থীরা যাতে কোচবিহার রাজপরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে, তার জন্য চত্বরে একটি জাদুঘর ও গ্যালারি স্থাপন করা প্রয়োজন।

🚧 সোসাইটি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে যে, প্রস্তাবিত নির্মাণ যেন ঐতিহ্যবাহী প্রবেশদ্বার বা কমপ্লেক্সের অন্যান্য পুরনো কাঠামোকে প্রভাবিত না করে। তারা হাওয়া মহলে (Hawa Mahal) অতীতে হওয়া একটি অ-বৈজ্ঞানিক সংস্কার কাজের উদাহরণ টেনে এনেছে, যেখানে একটি সিমেন্টের প্যারাপেট (parapet) পুরনো ব্যালুস্ট্রেড (balustrade) প্রতিস্থাপন করেছিল এবং ঐতিহাসিক চুন-সুরকির কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

👷‍♂️ পল সরকার কে কালীবাড়ির প্রস্তাবিত সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী (engineers) এবং প্রত্নতাত্ত্বিক (archaeologists) নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। এই স্থানটির ইতিহাস ১৯ শতকের। ১৮৩৬ সালে কোচবিহারের রাজা হরেন্দ্র নারায়ণ বারাণসী ভ্রমণ করেন এবং পরের বছর সোনারপুরাতে একটি পুরনো বাড়ি ও সংলগ্ন জমি কেনেন।

🗓️ পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের ৭ অক্টোবর বারাণসী ও কালীবাড়ি পরিদর্শনের পর সরকার আতিথেয়তা কেন্দ্র নির্মাণের এবং বিদ্যমান চত্বর সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। কোচবিহার রয়্যাল ফ্যামিলি সাকসেসরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট (Cooch Behar Royal Family Successors Welfare Trust) এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে সরকার পুরনো কাঠামো সংরক্ষণ করবে এবং উপযুক্ত নামকরণের মাধ্যমে কোচবিহার রাজপরিবারকে যথাযথ স্বীকৃতি দেবে।