কোচবিহারের রাস উৎসবে সম্প্রীতির 'রাসচক্র', ২০০ বছরের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখছে মুসলিম পরিবার! 🤝

কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন রাস উৎসবে সম্প্রীতির প্রতীক 'রাসচক্র' তৈরির ২০০ বছরের পুরনো প্রথা আজও সযত্নে বাঁচিয়ে রেখেছে একটি মুসলিম পরিবার। এই পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য আমিনুর হোসেন গত চার বছর ধরে এই রাসচক্র তৈরি করছেন।

কোচবিহারের রাস উৎসবে সম্প্রীতির 'রাসচক্র', ২০০ বছরের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখছে মুসলিম পরিবার! 🤝

✨ কোচবিহার: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, একটি মুসলিম পরিবার generations ধরে কোচবিহারের মদনমোহন রাস উৎসবের জন্য ঐতিহ্যবাহী রাসচক্র (Rass Chakra) তৈরির শতবর্ষ প্রাচীন প্রথাটি সংরক্ষণ করে চলেছে। আমিনুর হোসেন, এই পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য, গত চার বছর ধরে তাঁর বাবা আলতাফ মিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে হাতে এই রাসচক্র তৈরি করছেন। এই দায়িত্বটি মূলত তাঁর পূর্বপুরুষ পান মহম্মদ মিয়া শুরু করেছিলেন।

🎨 আমিনুর এই বছরের কাজ শুরু করেছেন তাঁর হরিনচাওড়া গ্রামের বাড়িতে, যা তোরসা নদীর তীরে অবস্থিত। ৩৪ ফুট লম্বা, আট-পার্শ্বযুক্ত এই কাঠামোটি বাঁশ, কাগজ, আঠা এবং সুতো ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে।

🗓️ ঐতিহ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপূজার দিন এই কাজ শুরু হয় এবং আমিনুর প্রথাগত খাদ্যাভ্যাস (dietary practices) পালন করেন। এই প্রক্রিয়াটি প্রায় এক মাস ধরে চলবে। দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের (Debottar Trust Board) মতে, রাসচক্র ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।

🎉 মদনমোহন ঠাকুরবাড়িতে বার্ষিক রাস উৎসব ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। রাত ৯টায়, দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের সভাপতি এবং কোচবিহারের জেলাশাসক রাসচক্র ঘোরানোর মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করবেন।

🗣️ আমিনুর বলেছেন, “রাসচক্র তৈরির দায়িত্ব আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য রক্ষা করার এবং এই কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করছি।”

📜 ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, এই উৎসবের সূচনা ২০০ বছরেরও বেশি আগে মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণের রাজত্বকালে ভেটাগুড়িতে (Bhetaguri) হয়েছিল। ধলুয়াবাড়ি (Dhaluabari) সহ বেশ কয়েকটি স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, উৎসবটি বর্তমান মদনমোহন ঠাকুরবাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নিষ্ঠার মাধ্যমে, আমিনুরের পরিবার একটি অনন্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে চলেছে।