যোগেন চৌধুরী প্রয়াত: ৮৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি শিল্পী 🎨

প্রখ্যাত শিল্পী যোগেন চৌধুরী ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি গত রবিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

যোগেন চৌধুরী প্রয়াত: ৮৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি শিল্পী 🎨

🎨 ভারতের শিল্প জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রখ্যাত শিল্পী, চিত্রকর এবং প্রিন্টমেকার যোগেন চৌধুরী ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। রবিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত দুই বছর ধরে তিনি ক্যান্সারের (cancer) চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এবং সম্প্রতি মূত্রনালীর সংক্রমণে (urinary tract infection) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শনিবার তাকে ভেন্টিলেটরে (ventilator) রাখা হয়েছিল। তিনি স্ত্রী শিপ্ৰা এবং পুত্র সৌম্যকে রেখে গেছেন।

🖼️ কিউরেটর, শিক্ষাবিদ এবং গ্যালারির মালিকরা হিন্দুস্তান টাইমসকে (Hindustan Times) জানিয়েছেন যে ভারতের শিল্প জগতে যোগেন চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য। তারা সকলেই তাঁর "শিশুসুলভ সারল্য" (child-like innocence), তারুণ্য এবং সহযোগিতামূলক মনোভাবের কথা বলেছেন। তিনি একজন অসাধারণ শিল্পী ছিলেন যিনি স্কেচ (sketch), লিথোগ্রাফ (lithograph), জলরং (watercolour) তৈরি করেছেন এবং তাঁর বিকৃত চিত্রগুলিতে (distorted figures) ক্রসহ্যাচ (crosshatch) কৌশলটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছেন।

✨ তাঁর বিখ্যাত কাজগুলির মধ্যে রয়েছে 'ড্রিম সিরিজ' (Dream series), যার মধ্যে 'রেমিনিসেন্সেস অফ এ ড্রিম' (Reminiscences of A Dream), 'টাইগার ইন দ্য মুনলিট নাইট' (Tiger in the Moonlit Night), 'দ্য কাপল' (The Couple) উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলির মধ্যে রয়েছে 'ফেসেস অফ এ থিঙ্কার' (Faces of a Thinker) (১৯৮০), 'ডে ড্রিমিং' (Day Dreaming) (১৯৭৯), 'গণপতি' (Ganapati) (১৯৭৬) এবং ইরাকে আমেরিকান সৈন্যদের দ্বারা বন্দীদের নির্যাতনের উপর ২০০৫ সালের সিরিজ।

🏫 যোগেন চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ শিল্প জীবনে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি শান্তিনিকেতনের কলা ভবনে (Kala Bhavan) শিক্ষক (Reader) এবং পরে অধ্যক্ষ (Principal) হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে প্রফেসর এমেরিটাস (Professor Emeritus) হয়েছিলেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে (Rashtrapati Bhavan) 'কিপার অফ আর্ট' (Keeper of Art) পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি দিল্লিতে 'গ্যালারি ২৬' (Gallery 26) এবং 'আর্টিস্টস' ফোরাম' (Artists' Forum) সহ-প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেন।

🏛️ ২০১৯ সালে, চৌধুরী কলকাতার সাউথ সিটি মলের (South City Mall) বিপরীতে একটি পাঁচতলা ভবন 'চারুবাসনা: যোগেন চৌধুরী সেন্টার ফর আর্টস' (Charubasona: Jogen Chowdhury Centre for Arts) খোলেন, যা সম্পূর্ণরূপে ভিজ্যুয়াল আর্টস (visual arts) এর জন্য নিবেদিত ছিল। তিনি ন্যাশনাল গ্যালারি অফ মডার্ন আর্ট (National Gallery of Modern Art) এর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যও ছিলেন।

🗳️ শিল্পকলার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন এবং ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) মনোনয়নে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) সদস্য হয়েছিলেন। তিনি ২০০১ সালে কালিদাস সম্মান (Kalidas Samman) এবং ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের বঙ্গ বিভূষণ (Banga Bibhushan) সহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

🌟 তাঁর শিল্পকর্মের বাইরেও, তিনি ভারতীয় শিল্পের বৃহত্তর বাস্তুতন্ত্র (ecosystem) নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন, যার মধ্যে এর ফোরাম (forums), জার্নাল (journals), প্রতিষ্ঠান (institutions) এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্তর্ভুক্ত ছিল। শিল্প সমালোচক আর শিবা কুমার (R Siva Kumar) বলেছেন যে চৌধুরী যখন রাষ্ট্রপতি ভবনে কাজ করার জন্য দিল্লিতে স্থানান্তরিত হন, তখন তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে প্রতিকৃতি (portraits) তৈরি করেন। শান্তিনিকেতনে শিক্ষকতা করার সময় তাঁর কাজগুলি বাংলা এবং ভারতের মধ্যবিত্ত সমাজের উপর একটি সূক্ষ্ম মন্তব্য হয়ে ওঠে।

🎨 নিউ দিল্লির (New Delhi) আর্ট অ্যালাইভ গ্যালারির (Art Alive gallery) প্রতিষ্ঠাতা সুনয়না আনন্দ (Sunaina Anand) ১৯৫৮ সালের চৌধুরীর একটি কাজের কথা স্মরণ করেন, যা তিনি স্কুলে থাকাকালীন তৈরি করেছিলেন এবং তাতে রেলওয়ে স্টেশনে (railway station) বসে থাকা অভিবাসীদের (migrants) দেখানো হয়েছিল। কোভিড-১৯ (COVID-19) মহামারীর সময়, তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের (migrant workers) দুর্দশায় গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং সেই অনুভূতিগুলি লেখা ও স্কেচের (sketches) মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছিলেন।