🇮🇳 দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী শিলিগুড়ি করিডোরকে আরও সুরক্ষিত করতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প শুরু করেছে কেন্দ্র সরকার। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে সেনাবাহিনী এখন ১৮ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ৩ ঘণ্টায় শিলিগুড়িতে পৌঁছাতে পারবে।
🚧 ডোকলাম সংকটের পর, কেন্দ্র সরকার শিলিগুড়ি করিডোর এবং সিকিম অঞ্চলে চারটি প্রধান সুরক্ষা পরিকাঠামো প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বর্তমানে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল এবং একক লেনের রাস্তার কারণে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সেনা বাহিনী নিয়ে সীমান্তে পৌঁছাতে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই প্রকল্পগুলি সম্পন্ন হলে, এই সময় কমে মাত্র ৩ ঘণ্টা হবে। এর ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনের যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে আরও সক্ষম হবে।
🚄 এই প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য হল ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রেল টানেল, যা মাটির ২০ মিটার নিচ দিয়ে তৈরি করা হবে। উত্তর দিনাজপুর জেলার থ্রি মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ির কাছে রাঙ্গাপানি পর্যন্ত এই টানেলটি তৈরি হবে। ভারত, নেপাল এবং বাংলাদেশের সীমান্তের খুব কাছে তৈরি হওয়া এই টানেলের উপর দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। এটি শত্রু বিমান এবং ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকবে। যুদ্ধের সময়, সেনাবাহিনীর ফরওয়ার্ড পোস্টগুলিতে কোনও বাধা ছাড়াই কামান এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহন করা যাবে।
🛡️ অপারেশন ফোর্ট্রেস শিলিগুড়ির অধীনে, ৫৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাত-স্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি কমান্ড সেন্টার, ৬টি কমিউনিকেশন সেন্টার, ১২টি এয়ার ডিফেন্স ও অ্যামুনিশন স্টোরেজ এবং ১২টি বোম শেল্টার। এই ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামো চীনের নতুন গ্রাম তৈরির প্রতিক্রিয়ায় তৈরি করা হচ্ছে।
🛣️ এছাড়াও, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযোগকারী এই সংকীর্ণ করিডোরকে সুরক্ষিত করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এই ঘাঁটিগুলিতে সৈন্য, লজিস্টিক হাব এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে।
✈️ উন্নতমানের হেলিপ্যাড, রাস্তা এবং ফরওয়ার্ড স্টেজিং এলাকা তৈরির মাধ্যমে আকাশ ও স্থল পথের সমন্বয় বৃদ্ধি করা হবে। চীন ও বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে এই পরিকাঠামো উন্নয়ন, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমাতে সাহায্য করবে।
📈 এই পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির মূল উদ্দেশ্য হল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৪ কোটি মানুষের সঙ্গে ভারতের বাকি অংশের সংযোগ রক্ষা করা এবং যেকোনো বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলা করার জন্য সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।



