🚚 আপনি যদি Facebook, Instagram, TikTok বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন, তাহলে সম্ভবত একটি কিশোর ছেলের চায়ের কাপ হাতে হাসির ভিডিও আপনার চোখে পড়েছে। এই ক্লিপটি মিম, প্রতিক্রিয়া ভিডিও এবং হাস্যরসাত্মক পোস্টে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ছেলেটিকে ইন্টারনেটে একটি পরিচিত মুখ করে তুলেছে। কিন্তু সেই সংক্রামক হাসির পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য, কষ্ট, বন্ধুত্ব এবং দৃঢ় সংকল্পের এক গল্প।
👦 অনলাইনে "লাফিং বয়" নামে পরিচিত এই কিশোরটির নাম অরুণ কুমার, যাকে তার পরিবার আদর করে বানি বা লাড্ডু বলে ডাকে। লোকসত্তা (Loksatta) অনুসারে, অরুণ ভারতের তেলেঙ্গানার জয়শঙ্কর ভূপালপল্লী জেলার মহামুথারাম মণ্ডলের কার্লাকুন্টা (নার্পু চেত্তুপল্লী) গ্রামের বাসিন্দা।
📚 অরুণ একটি আর্থিকভাবে সংগ্রামরত পরিবারে বড় হয়েছেন। তার বাবা-মা কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং আর্থিক সমস্যার কারণে তাকে মাত্র ১০ বছর বয়সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। স্কুল ছাড়ার পর, অরুণ তার পরিবারের আয়ে অবদান রাখতে ট্রাকের সহকারী এবং ক্লিনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ট্রাকে কাজ করার সময়, তার সাথে নেহেরু নামে একজন ট্রাক চালকের পরিচয় হয়, যিনি তার নিয়োগকর্তার চেয়েও বেশি কিছু হয়ে ওঠেন।
🛣️ নেহেরু অরুণের পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাকে পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। নিজে কলেজ ছাড়তে বাধ্য হওয়ায়, নেহেরু অরুণকে এমন একটি সুযোগ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন যা তিনি নিজে পাননি। দ্য ইকোনমিক টাইমস (The Economic Times) অনুসারে, নেহেরু অরুণের শিক্ষার দায়িত্ব নেন, তাকে বই কিনে দেন, পরীক্ষার ফি দেন এবং একটি ওপেন-স্কুল (open-school) প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাকে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার জন্য একজন বহিরাগত ছাত্র হিসেবে নিবন্ধন করান। ট্রাকের ছোট কেবিনটি অরুণের শ্রেণিকক্ষে পরিণত হয়।
😂 অরুণ, তার সদ্য পরিষ্কার করা পোশাক নোংরা হওয়ার ভয়ে, নেহেরুর ঠাট্টার কারণে হাসতে শুরু করেন। চা গরম থাকায় কাপ ধরে রাখায় সামান্য অস্বস্তিও হচ্ছিল, যা স্বতঃস্ফূর্ত হাসিতে যোগ করে। নেহেরু তার ফোনে সেই মুহূর্তটি ধারণ করেন। তিনি ফুটেজটি সম্পাদনা করে প্রায় এক সপ্তাহ পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। নেহেরুর মতে, ভিডিওটি প্রথম মাসের মধ্যেই কয়েক কোটি ভিউ (views) আকর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে শেয়ার (shared) হয়, যা অরুণকে একজন ভাইরাল ইন্টারনেট ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
🤝 সেই ক্ষতির প্রভাব স্মরণ করে, এই জুটি সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা জুয়া খেলার প্ল্যাটফর্ম (gambling platforms) প্রচার করবে না, যত টাকাই প্রস্তাব করা হোক না কেন। তাই অরুণের গল্পটি কেবল একটি ভাইরাল হাসির চেয়েও বেশি কিছু। ১০ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে ট্রাকের টায়ার পরিষ্কারের কাজ করা একটি ছেলে ইন্টারনেট সেনসেশন (internet sensation) হয়ে উঠেছে, যখন একজন ট্রাক চালকের নির্দেশনা ও সমর্থন তাকে পড়াশোনায় ফিরিয়ে এনেছে। তাদের যাত্রা দেখায় যে কীভাবে ফোনে ধারণ করা একটি সাধারণ মুহূর্ত খ্যাতি আনতে পারে—তবে কীভাবে বন্ধুত্ব, সহানুভূতি এবং কারো জীবন পরিবর্তনের দৃঢ় সংকল্প ইন্টারনেটের বাইরেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।



