বাংলাদেশী ধর্ষণ-হত্যার ভিডিও পশ্চিমবঙ্গে ছড়ানো হয়েছে বলে ভুয়ো খবর! ❌

একটি ভিডিও যা বাংলাদেশে এক মহিলার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে পশ্চিমবঙ্গের বলে মিথ্যাভাবে ছড়ানো হচ্ছিল, তা আসলে বাংলাদেশেরই ঘটনা বলে ভারত ট্যুডে ফ্যাক্ট চেক-এ প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাদেশী ধর্ষণ-হত্যার ভিডিও পশ্চিমবঙ্গে ছড়ানো হয়েছে বলে ভুয়ো খবর! ❌

📰 ভারত ট্যুডে ফ্যাক্ট চেক-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে একটি মহিলার মৃতদেহ ঝোপের মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে। এই ভিডিওটি মিথ্যাভাবে দাবি করা হচ্ছিল যে এটি পশ্চিমবঙ্গের কোনও ঘটনা, যেখানে এক মহিলাকে বিজেপি সমর্থকরা ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।

🔍 তবে, ভারত ট্যুডে ফ্যাক্ট চেক-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে যে এই ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে নয়, বরং বাংলাদেশ থেকে এসেছে। সেখানে এক ২৮ বছর বয়সী মহিলাকে তাঁর ছেলের সাথে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল।

🌍 ভিডিওটির ফ্রেমগুলির রিভার্স সার্চ করে একটি বাংলাদেশী ফেসবুক পেজ 'ভোলা টিভি'-তে একই ভিডিও পাওয়া গেছে, যার তারিখ ২১শে আগস্ট। ক্যাপশন অনুযায়ী, ভিডিওটি বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের মাদারীপুরের শিবচর এলাকার।

📰 এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যেমন যুগান্তর, প্রথম আলো এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ এই সংক্রান্ত খবর পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় ঘটেছিল, যেখানে শম্পা খাতুন (২৮) নামে এক মহিলাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর এক বছরের ছেলে আবিকেও আরিয়াল খান নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

📅 ১৯শে আগস্ট শিবচরের মাদারীপুর ইউনিয়নের বাখেরকান্দি এলাকায় শম্পার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শম্পা প্রায় তিন বছর আগে মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁদের একটি সন্তান ছিল, আবি।

💔 অভিযোগ, শম্পার স্বামী একটি মামলায় জেলে থাকাকালীন শম্পা বাখেরকান্দির বাসিন্দা ফারুক মোল্লার কাছাকাছি আসেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফারুক শম্পাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়, যেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। এরপর তার মৃতদেহ ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়।

👮 পুলিশ এই ঘটনায় ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে এবং শম্পার কিছু জিনিসপত্র, যেমন একটি সোনার নাকফুল ও একটি রূপার নেকলেস উদ্ধার করেছে। সুতরাং, এই ভিডিওটি যে বাংলাদেশ থেকে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে নয়, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।