সবজি বিক্রেতা থেকে ই-রিকশা চালক, তারপর কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ: প্যারা পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমারের অনুপ্রেরণামূলক গল্প! 🏅

বিহারের প্যারা পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ পুরুষদের হেভিওয়েট বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন, যা সবজি বিক্রি এবং ই-রিকশা চালানোর মতো কঠিন সংগ্রামের পর তার এক অসাধারণ সাফল্যের গল্প।

সবজি বিক্রেতা থেকে ই-রিকশা চালক, তারপর কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ: প্যারা পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমারের অনুপ্রেরণামূলক গল্প! 🏅

🤩 কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদক জয় শুরু হয়েছে প্যারা পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমারের হাত ধরে, যিনি পুরুষদের হেভিওয়েট বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। তার এই জয় সবজি বিক্রি এবং ই-রিকশা চালানোর মতো কঠিন ব্যক্তিগত ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প।

💪 ঝান্ডু কুমার বিহারের নালন্দা জেলার হারনৌত গ্রামের বাসিন্দা। পাঁচ বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। তার বাবা-মা পোলিওর চিকিৎসার জন্য সবকিছু ব্যয় করার পর, লোকেরা তাকে "ঝান্ডু" নামে উপহাস করত, কিন্তু তিনি এই নামটিকে গর্বের সাথে গ্রহণ করেছেন।

🏋️‍♂️ ঝান্ডু কুমার তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ১৯০ কেজি ওজন তুলে পদক জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যান। যদিও তিনি তৃতীয় প্রচেষ্টায় ১৯৬ কেজি তুলতে পারেননি, তবুও তিনি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন। তিনি মোট ১৩০.৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

🗣️ পদক জেতার পর ঝান্ডু NDTV-কে বলেন, "আমি এই পদক আমার বাবা-মা, আমার কোচ, ক্রীড়া মন্ত্রক (Sports Ministry) এবং SAI-এর সকল সদস্যকে উৎসর্গ করতে চাই। এই সাফল্যের জন্য সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন।"

🛣️ ঝান্ডু কুমার ২০১৬-১৭ সাল থেকে জিমে যাওয়া শুরু করেন এবং ২০১৮-১৯ সালের দিকে প্যারা পাওয়ারলিফটিং (Para Powerlifting) সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি তার জীবিকা নির্বাহের জন্য সবজি বিক্রি করতেন এবং পরে একটি ই-রিকশা চালাতেন। তবে, প্রশিক্ষণে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তিনি ২০২৩ সালে ই-রিকশা বিক্রি করে দেন।

💬 ঝান্ডুর কোচ রাজিন্দর সিং রাহেলু জানান, স্বর্ণপদক জয়ের লক্ষ্য থাকলেও সামান্য ভুল গণনা এবং ভুল বোঝাবুঝির (miscommunication) কারণে ঝান্ডু তা অর্জন করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও, তার এই ব্রোঞ্জ পদক ভারতের জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়।