কোচবিহারের মদনমোহন রথযাত্রা: হাজার হাজার ভক্তের সমাগম 🎊

বৃহস্পতিবার কোচবিহারের রাস্তায় ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন দেবের রথযাত্রা উপলক্ষে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়েছিল। এই শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রাটি রাজ পরিবারের দেবতাকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান ও রাজকীয় রীতিনীতি সহকারে পালিত হয়।

কোচবিহারের মদনমোহন রথযাত্রা: হাজার হাজার ভক্তের সমাগম 🎊

🎉 কোচবিহারে ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার এই শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রাটি রাজ পরিবারের দেবতাকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান ও রাজকীয় রীতিনীতি সহকারে পালিত হয়।

🙏 পুরীর রথযাত্রার থেকে ভিন্ন, মদনমোহন দেবের এই রথযাত্রা কোচবিহারের প্রাক্তন রাজত্বের এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য বহন করে। মদনমোহন মন্দিরে দিনের শুরুতে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের পর বিকেল ৪:৫৫ মিনিটে রথের যাত্রা শুরু হয়। এই আচার-অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে ছিল দেবের আনুষ্ঠানিক স্নান, বিশেষ পূজা, ভোগ নিবেদন এবং যজ্ঞ।

🏛️ এরপর কাথমিয়া মন্দিরে একটি বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কোচবিহারের জেলাশাসক জিতিন যাদব দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে অংশগ্রহণ করেন। আচার-অনুষ্ঠান ও অঞ্জলি সম্পন্ন হওয়ার পর, বিকেল ৪:১৫ মিনিটে, কাথমিয়া মন্দির থেকে শ্রীশ্রী মদনমোহন দেবের মূর্তি বের করে রথে স্থাপন করা হয় বিকেল ৪:৪৫ মিনিটে।

👑 রাজকীয় রীতি মেনে, প্রাক্তন রাজ পরিবারের সদস্য অজয় কুমার দেবকী প্রথমে রথের দড়ি টেনে যাত্রার সূচনা করেন। এরপর হাজার হাজার ভক্ত হরিশ পাল চৌপাটি, মিনা কুমারী মোড়, ওল্ড পোস্ট অফিস পাড়া এবং রাজবাড়ির সামনে দিয়ে রথ টেনে নিয়ে যান। অবশেষে দেবীর রথ গুঞ্জবাড়ির ডাংরাই মন্দিরে পৌঁছায়, যা দেবীর মাসির বাড়ি হিসেবে পরিচিত।

🗓️ মদনমোহন দেব এখানে সাত দিন থাকবেন এবং ঐতিহ্যবাহী উল্টো রথের দিনে পুনরায় মদনমোহন মন্দিরে ফিরে আসবেন। রথযাত্রার পথ ধরে বিশাল জনসমাগম দেখা যায় এবং মদনমোহন মন্দির ও ডাংরাই মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী রথ মেলার আয়োজন করা হয়।

👮‍♂️ উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য পুলিশ বিশাল সংখ্যক কর্মী মোতায়েন করে এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জেলাশাসক জিতিন যাদব বলেন, “আমি কোচবিহারের এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। মদনমোহন দেবের আশীর্বাদে, আমি আশা করি রথযাত্রা আবারও শান্তিপূর্ণভাবে এবং সফলভাবে সম্পন্ন হবে।”