🗣️ কোচবিহার: বিজেপি (BJP) রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায়, যিনি অনন্ত মহারাজ নামে পরিচিত, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে তাঁর মন্তব্যের জেরে এক বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট সদস্যরা।
📹 এই বিতর্ক শুরু হয় দিনহাটার একটি অনুষ্ঠানে অনন্ত মহারাজের দেওয়া একটি বক্তৃতার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (viral) হওয়ার পর। সেই বক্তৃতায় তিনি নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ (Azad Hind Fauj) সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
📜 অনন্ত মহারাজ অভিযোগ করে বলেছিলেন, "পুরো বাহিনী ব্রিটিশদের ছিল। সেই সৈন্যদের জার্মানরা ধরেছিল এবং পরে নেতাজির হাতে তুলে দিয়েছিল। নেতাজি তখন সেই বাহিনীকে অপব্যবহার করেছিলেন।"
👑 একই সময়ে, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এবং ইউটিউবারদের বিরুদ্ধে কোচবিহারের রাজপরিবার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। অনন্ত মহারাজ আরও বলেছিলেন, "মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ সমগ্র ভারতকে মুক্ত করেছিলেন। যদি তাঁকে আজ মহারাজ করা হতো, তাহলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তান কিছুই থাকত না। আমাদের মহারাজ হিটলার এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (Indian National Army) (আজাদ হিন্দ ফৌজ) কে পরাজিত করেছিলেন। নেতাজির বাবার কি সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা ছিল?"
🚨 ফরওয়ার্ড ব্লক (Forward Bloc) বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কোচবিহার জেলার বেশ কয়েকটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। জেলা ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা দীপক সরকার বলেছেন, "নেতাজি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য। আমরা অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা এবং তাঁর রাজ্যসভার সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানাই।"
🤝 এই বিতর্কের প্রতিক্রিয়ায়, কোচবিহার রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী কল্যাণ সমিতির সমন্বয়ক কুমার মৃদুল নারায়ণ বলেছেন যে নেতাজি বা রাজপরিবার উভয়ের সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, "দেশের স্বার্থে সময়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী সবাই কাজ করেছেন। তাঁদের অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য সহনশীলতা এবং শালীনতা প্রয়োজন।"
✍️ এদিকে, প্রাক্তন পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিখিলেশ রায় এবং পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত নগেন্দ্রনাথ রায় সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট রাজবংশী ব্যক্তিত্ব অনন্ত মহারাজের মন্তব্যকে "মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং অপমানজনক" আখ্যা দিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে এই ধরনের মন্তব্য ইতিহাসকে বিকৃত করে এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে।



